Header Ads

বিরুদ্ধ-দখল বা জবর-দখল


যদি কোন ব্যক্তি প্রকৃত মালিকের সত্ত্ব অস্বীকার করে ১২ বছর বা তার বেশী সময় নিরবিচ্ছিন্ন দখলে থাকা প্রমাণ করতে পারে তাহলে তার বিরুদ্ধ দখলজনিত সত্ত্ব সৃষ্টি হবে। এরুপ দখল প্রকৃত মালিকের জ্ঞাতসারে হতে হবে। জবর দখলকারীকে প্রকৃতপক্ষে জমিতে দখলদার থাকতে হবে। জবরদখলকারীর দখলে নাই অথচ খতিয়ানে তার নামে দখল লেখা আছে এরুপ কাগজী দখলের কোন কাজ হবে না।
সরকারি সম্পত্তিও জোর দখলমূলে সত্ত্ব সৃষ্টি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ১২ বছরের পরিবর্তে সময়সীমা হবে ৬০ বছর।
তামাদির সময় সীমা স্বত্বের মামলার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে ১ বছর। তামাদি আইন -১৯০৮ এর ১৪২- অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তির দখল থাকাকালে সে যদি বেদখল হয় তাহলে সেক্ষেত্রে বাদীকে অবশ্যই বেদখলের তারিখ হতে ১২ বৎসরের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে বিবাদীর বিরুদ্ধে স্বত্বসাব্যস্তে খাস দখলের জন্য মামলা করতে হবে। অন্যথায় দাবীকৃত জমিতে বাদীর সকল প্রকার অধিকার এবং স্বত্ব ধ্বংস হযে যাবে।
যে সময় হতে জবর দখলের কারণে বাদীর মালিকানা বিলুপ্তি হযে যাবে ঠিক ঐসময় হতেই জবর দখলকারীর উপর সংশ্রিষ্ট জমির মালিকানা বর্তাবে।আর এভাবেই জবর দখলের মাধ্যমে প্রকৃত মালিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির সম্পত্তির উপর বৈধ বা আইনগত স্বত্ব অর্জিত হয়ে থাকে।
যদি সে উক্ত নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে মামলা না করে তাহলে তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী তার অধিকার বিলুপ্ত হবে। মূলত,কোন বিবাদ যাতে অনন্তকাল ধরে চলতে না পারে এবং নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্তের পর কোন ব্যক্তি তার সত্ত্ব ও অধিকারের প্রশ্ন তুলতে না পারে সে জন্য তামাদি আইনে এরুপ বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিরুদ্ধ দখলের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে :
১.বিরুদ্ধ দখলদারীকে প্রকৃতপক্ষে জমিতে দখলদার থাকতে হবে।
২.দখল মালিকের জ্ঞাতসারে হতে হবে।
৩.প্রকৃত মালিকের দাবী অস্বীকার করে ১২ বছরের বা তার বেশি সময় জমি দখলে রাখতে হবে।
এজমালী সম্পত্তির ক্ষেত্রে একজন শরীকের দখল সব শরীকের দখল হিসেবে গন্য হয় তাই এরুপ সম্পত্তির ক্ষেত্রে কোন শরীকের বিরুদ্ধে অপর শরীক বিরুদ্ধ দখলমূলে সম্পত্তি অর্জন করতে পারে না। কিন্তু যদি একজন শরীক অন্য শরীকদের দাবী অস্বীকার করে এককভাবে কোন সম্পত্তি ১২ বছরের বেশী সময় দখলে রাখে তখন অন্য শরীকদের বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধ দখলজনিত অধিকার সৃষ্টি হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.