মানসিক স্বাস্থ্য
মানসিক স্বাস্থ্য কি তা বুঝতে হলে সর্বপ্রথম জানতে হবে স্বাস্থ্য কি? সহজ কথায় স্বাস্থ্য হল ব্যক্তির শারিরীক, মানসিক এবং সামাজিক এই তিন অবস্থার একটি সুস্থ্য সমন্বয়। সুতরাং বলা যায়, একজন মানুষের স্বাস্থ্য হল রোগবালাই মুক্ত সুস্থ্য শরীর ও একই সাথে ভয়, হতাশা, বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি থেকে মুক্ত মন এবং সমাজে বসবাস করতে গিয়ে সামাজিক বাধার সম্মুখীন না হওয়া। অর্থাৎ , স্বাস্থ্যের অন্যতম উপাদান হল মানসিক স্বাস্থ্য বা মনের সুস্থতা।
শরীর ও মনের দিক থেকে সুস্থ্য অবস্থা এবং পরিবেশের সাথে সুস্থ্য সংগতি বিধান করাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে মানুষের সকল আচরণই উদ্দেশ্যমুখী।এ উদ্দেশ্যমুখী আচরণের মূলে রয়েছে অনেকগুলো চাহিদা। মানুষ যদি বাস্তব জীবনের সকল সমস্যা ও সংকট মেনে নিয়ে তার চাহিদাগুলো স্বল্পতম সংঘর্ষ ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ণ করতে পারে তবে ইতিবাচক আবেগীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়, মানসিক তিপ্তি লাভ হয় এবং সংগতি বিধান সম্ভব হয়। এ সার্থক সংগতি বিধানের মধ্যে দিয়েই মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা হয়। আর যদি কোনো কারনে মানুষ তার চাহিদাগুলো মেটাতে না পারে তবে নেতিবাচক আবেগীয় অবস্থা দেখা যায়। যার ফলে প্রক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই প্রক্ষোভই মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মানসিক আচরণের মাধ্যমে। সুতরাং দেখা যায় যে, মানুষের চাহিদা অর্জিত হলে পরিবেশের সাথে সংগতি বিধান সম্ভব হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা হয়। WHO এর মতানুসারে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষিত হয়েছে তখনই বলা যায় যখন সে মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক দিক থেকে সুস্থ্য নিরোগ ও সুখী হয় এবং জীবনের সর্বস্তরেই তার কুশলতা বর্তমান থাকে। WHO মানসিক স্বাস্থ্যকে ব্যাখ্যা করে মানসিক সুস্বাস্থ্য হিসাবে মত দিয়েছেন যে, মানসিকভাবে স্বাস্থ্যবান একজন মানুষ সেই যে তার নিজের ক্ষমতা বুঝতে পারে, জীবনের স্বাভাবিক চাপসমূহের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে এবং সমাজে সর্বস্তরে অবদান রাখতে পারে।


Post a Comment